রাত অনেক হলে
মানুষ নিজের কাছেই ফিরে আসে।
বাইরের পৃথিবী তখনও জেগে থাকে।
আলো জ্বলে।
গাড়ি যায়।
কারো জানালায় গান বাজে।
আমি চুপ করে বসে থাকি।
মনে হয় বুকের ভিতর
একটা পুরোনো নদী
শুকিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
কেউ তা টের পায় না।
পাওয়ার কথাও না।
দিনভর মানুষ আমাকে দেখে
হাসতে দেখে
ব্যস্ত থাকতে দেখে।
মনে করে
আমি বোধহয় জীবনের সঙ্গে ঠিকঠাক তাল মিলিয়ে চলছি।
শুধু আমি জানি
ভিতরে ভিতরে কত শব্দ ভেঙে পড়ে।
কিছু অপমান জমে থাকে।
কিছু বিকেল ডুবে যায়।
কিছু মুখ হঠাৎ অচেনা হয়ে ওঠে।
আর কিছু ভালোবাসা
একদিন কোনো শব্দ না করেই থেমে যায়।
গভীর রাতে
সেইসব ভাঙার শব্দ শোনা যায়।
খুব ব্যক্তিগত সেই শব্দ।
যেন একা একটা ঘর ধসে পড়ছে অন্ধকারে
আর ধুলোর ভিতর
দাঁড়িয়ে আছে শুধু আমার ছায়া।
এই নীরবতারও একটা শরীর আছে।
সে পাশে এসে বসে থাকে।
কিছু জিজ্ঞেস করে না।
শুধু আমার সমস্ত না বলা কষ্ট
ধীরে ধীরে
পাথরের মতো জমতে থাকে।

0 Comments